রবিবার ১৯ জুলাই ২০২৬ - ১২:৪৭
ইরাকের জনগণের প্রতি সর্বোচ্চ নেতার কৃতজ্ঞতা-শহীদ ইমামের জানাজা ও শোকযাত্রায় ঐতিহাসিক অংশগ্রহণের জন্য

ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা এক বার্তায় ইরাকের জনগণকে শহীদ মুজাহিদ ইমামের জানাজা ও শোকযাত্রায় তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বার্তায় ইরাকের শীর্ষ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, আলেম, বুদ্ধিজীবী, গোত্রীয় নেতৃবৃন্দ, সাহসী তরুণ এবং সাধারণ জনগণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে অনুষ্ঠিত এই নজিরবিহীন ও লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা ইরান ও ইরাকের জনগণের পারস্পরিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সংহতির এক পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, ইরান ও ইরাকে কোটি কোটি মানুষের এই উপস্থিতি, শহীদ মুজাহিদ ইমামকে বিদায় জানানোর উপলক্ষে, তথাকথিত আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর পূর্বনির্ধারিত সমীকরণ পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন এক জাগরণ ও ভূমিকার সূচনা করেছে।

আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ীর বার্তার বাংলা অনুবাদ

بسم‌الله الرّحمن الرّحیم

ইরাকের সম্মানিত মারজাগণ, শ্রদ্ধেয় আলেম, হাওজা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক, চিন্তাবিদ, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গোত্রপ্রধান, উপজাতীয় নেতা, সম্মানিত জনগণ এবং সাহসী ও মর্যাদাবান তরুণদের প্রতি আমরা সালাম, শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

ইরাকের ঈমানদার জনগণ, যারা পবিত্র ইমামদের (আ.) মাজারসমূহের সান্নিধ্য ও সেবার মহান সৌভাগ্য লাভ করেছেন, এবং যারা সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, নাজাফের প্রাচীন ও আলোকোজ্জ্বল ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রের আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা এবং প্রতিরোধের সংগ্রামে তাদের ভূমিকার জন্য পরিচিত-তারা ইরানের জনগণের মতোই শহীদ নেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে এক মহান, অর্থবহ ও গভীর আবেগপূর্ণ ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

যেদিন থেকে আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.)-এর পদধূলি ইরাকের মাটিকে স্পর্শ করেছে, সেদিন থেকেই এই ভূমি বরকতময় হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এ দেশের মানুষ গর্বের সঙ্গে তাঁর এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যকে নিজেদের জীবনের অংশ করে নিয়েছে।

অত্যাচারী শাসকদের দীর্ঘ শাসনও তাদের হৃদয় থেকে আহলে বাইতের প্রতি এই ভালোবাসা মুছে ফেলতে পারেনি। সে কারণেই বাথ সরকার পতনের পর আরবাঈনের মহাপদযাত্রার মতো বিশাল ঘটনা ঘটেছে এবং মানুষের অন্তরের বিশ্বাস থেকে উৎসারিত হওয়ায় তা দিন দিন আরও বিস্তৃত হয়েছে।

এই জনগণ যখন দেখল যে আমিরুল মুমিনীন (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সেই নিপীড়িত ও শহীদ সন্তানের মরদেহ বহু বছর পর আবার পবিত্র মাজারসমূহে এসেছে, তখন তারা আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিরোধ আন্দোলনের এই নেতার কোটি মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত শোকযাত্রা ইরান ও ইরাকের জনগণের মধ্যে সংহতি, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য প্রকাশ হয়ে উঠেছে। নিঃসন্দেহে বিশ্বশক্তিগুলো উদ্বিগ্ন মনে এই বিশাল সমাবেশের দৃশ্য দেখেছে এবং উপলব্ধি করেছে যে দুই জাতির সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য তাদের বিপুল বিনিয়োগ ব্যর্থ হয়েছে।

ইরান ও ইরাকে কোটি কোটি মানুষের এই অংশগ্রহণ, শহীদ মুজাহিদ নেতাকে বিদায় জানানোর উপলক্ষে, নতুন এক জাগরণ ও রাজনৈতিক ভূমিকার সূচনা করেছে, যা আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর পূর্বনির্ধারিত হিসাব-নিকাশকে পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে। এখন যুক্তরাষ্ট্র, যাকে বার্তায় "মহাশয়তান" ও "অপরাধী আমেরিকা" বলে উল্লেখ করা হয়েছে, বুঝতে পেরেছে যে এ অঞ্চলে তার নিরবচ্ছিন্ন ও আধিপত্যমূলক উপস্থিতি বজায় রাখা আর সহজ নয়।

শিগগিরই আবার ইরাকের উদার জনগণ, তাদের গোত্র ও উপজাতিসমূহ আরবাঈনের জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আগত লাখো জিয়ারতকারীকে, বিশেষ করে যারা ইরানের শহীদ নেতার পক্ষ থেকে নিয়াবত হিসেবে জিয়ারত করবেন, সাদরে বরণ করবে। এই মহিমান্বিত শোকযাত্রার স্মৃতি এবং সেই মহান ব্যক্তিত্বের স্মরণ, যিনি হয়তো বহু বছর ধরে পবিত্র মাজারসমূহ জিয়ারতের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছিলেন, সবার সামনে এই সত্যভিত্তিক স্লোগানকে তুলে ধরবে-

«حُبُّ‌ الحسین یَجمَعُنا»

ইমাম হুসাইনের প্রতি ভালোবাসাই আমাদের একত্রিত করে।

আল্লাহর ইচ্ছায়, এই ভালোবাসা ইরাকের জনগণের জন্য নিরাপত্তা, বরকত ও অগ্রগতির কারণ হবে।

সাইয়্যেদ মুজতবা হুসাইনি খামেনেয়ী

২ সফর ১৪৪৮ হিজরি

২৬ তির ১৪০৫ (ইরানি সন)

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha